বাকী এবং কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় ইসলামে জায়েজ কিনা?

Spread the love

বাকী এবং কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয় এ মাসায়েল – ধারে কারবার করতে বিক্রেতার সম্মতি আবশ্যক, তার সম্মতি ছাড়া দাম বাকী রাখা জায়েয নেই। বাকীতে কোন বস্তু ক্রয় করলে মূল্য পরিশােধের দিন বা তারিখ নির্দিষ্ট করে বলতে হবে ।

১। ক্রেতা কোন একটি দ্রব্য বাকীতে ক্রয় করল অথচ দাম পরিশােধের কোন মেয়াদ নির্দিষ্ট করল না-এমনিই দ্রব্য নিয়ে চলে গেল, তাহলে সে মেয়াদ এক মাস বলে ধরা হবে। এক মাস অতিবাহিত হলেও যদি মূল্য পরিশােধ না করে, তাহলে বিক্রেতা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
২। হিসাব নিকাশের সময় মূল্য নিয়ে মত বিরোধের আশংকা থাকলে মূল্য নির্ধারণের পরেই পণ্য নেয়া উচিত।
৩। দরে বিক্রি করার পর বিক্রেতার পণ্য ফেরত নেয়ার অধিকার থাকবে না ।
৪। বিক্রেতা যদি দাম পরিশােধের কিস্তি নির্দিষ্ট করে দেয়, তাহলে তার পুরাে দাম একত্রে দাবী করার অধিকার থাকবে না।
৫। বাকীতে বিক্রি করলে নগদের তুলনায় কিছুটা বেশী দামে বিক্রি করতে পারবে।

৬। ধারের মেয়াদ বৃদ্ধি করার অধিকার বিক্রেতার, সে চাইলে মেয়াদ বৃদ্ধিও করতে পারে আবার মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর দাম দাবী করতে পারে বরং কঠোরতা সহকারেও দাম আদায় করার অধিকার তার রয়েছে ।
৭। বাকীতে ক্রয় করলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর মূল্য পরিশােধ করা। ওয়াজিব-বিনা অপারগতায় টালবাহানা করা জায়েয নয়।
(ইসলামী ফেকাহঃ ৩য় ও বেহেশতী জেওর থেকে গৃহীত)

আরও পড়ুন >> কুরআন তিলাওয়াত এর গুরুত্বপূর্ণ আমল সমূহ

Google Newsবিস্তারিত জানতে Google News অনুসরণ করুন

 

দাম এখন পণ্য পরে এমন বিক্রয়ঃ

দাম এখন পণ্য পরে এমন এরূপ ক্রয়-বিক্রয়ের মাসায়েল যদি ক্রেতা থেকে দাম এখনই নেয়া হয় আর পণ্য পরে দেয়ার অঙ্গীকার। হয়-এরূপ বিক্রয়কে বলে বাইয়ে সালাম’। এ প্রকার ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হওয়ার। জন্য ছয়টি শর্ত রয়েছে।

যথাঃ
১। যে পণ্যটি নেয়া হবে তার পূর্ণ বিবরণ জানা থাকতে হবে। এর জন্য কিছু নমুনা (Sample) দেখে নেয়া উত্তম। যে সব পণ্য নির্দিষ্ট করা সম্ভব নয় তাতে বাইয়ে সালাম জায়েয নয়, যেমন জন্তুর বেলায়।
২। দাম দস্তুর চূড়ান্ত করে নিতে হবে।
৩। পণ্য হস্তান্তরের দিন বা সময় নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।

৪। পণ্য যদি সহজে স্থানান্তর যােগ্য না হয় (যেমন দশ বিশ মণ খাদ্য শস্য বী দু’ চার গাইট কাপড় ইত্যাদি) তাহলে সে পূণ্য কোন স্থান থেকে ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে তা নির্দিষ্ট থাকতে হবে। এরূপ ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতাকে বলতে পারে যে, অমুক স্থানে আমাদের এ সব দ্রব্য পৌছে দিতে হবে।
৫। এরূপ কারবারের কথা-বার্তা চলার প্রাক্কালে সম্পূর্ণ টাকা পরিশােধ করতে হবে। যদি কথা-বার্তা চলে আজ আর টাকা দেয়া হবে পরৈ দিন, তাহলে বিক্রেতা গতকালের দাম আজ মেনে নিতে বাধ্য নয় বরং আজ নতুন করে কারবার চুক্তি করা বা অস্বীকার করার অধিকার থাকবে তার।
৬। যে মেয়াদের জন্য কারবার চুক্তি হল সে মেয়াদের মধ্যে কখনও যদি পণ্যটি বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়-মওজুদ না থাকে, তাহলে বিক্রেতা টাকা ফেরত দিতে পারবে ।

 

Check Also

হাদীসে বর্ণিত

হাদীসে বর্ণিত বিশেষ কয়েকটি মুনাজাত ও তার গুরুত্ব

Spread the loveহাদীসে বর্ণিত মুনাজাত সমুহ আলোচনা করার আগে আপনাদের আল্লাহ তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *