পুরাতন কম্পিউটার কিনে আপনি ঠকছেন না তো !!

পুরাতন কম্পিউটার

দেশে পুরাতন কম্পিউটার ও মানহীন প্রযুক্তি পণ্য দেদার বিক্রি হচ্ছে। ঠিকমতো নজরদারির অভাবে ক্রেতাদের হাতে চলে যাচ্ছে চকচকে মোড়কে পুরনো পণ্য। অন্যদিকে, দেশে পুরনো ল্যাপটপ, কম্পিউটার আমদানি নিষিদ্ধ হলেও মধ্যপ্রাচ্য ও সিঙ্গাপুর হয়ে ঢুকছে এসব পণ্য। এর বড় একটা বাজারও গড়ে উঠেছে ঢাকায়। প্রতি মাসে ২ হাজারের বেশি ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে এসব বাজার থেকে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের সবচেয়ে বাজার হলো রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের বিসিএস কম্পিউটার সিটি। এই মার্কেটে তথ্যপ্রযুক্তির পুরনো পণ্য বিক্রির তেমন কোনও অভিযোগ নেই। পণ্য বিক্রিতে ‘ফেয়ার প্র্যাক্টিস’ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। নকল, পুরনো পণ্য বিক্রির সবচেয়ে বড় মার্কেট হলো এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টার। এখানে নতুন ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি মানহীন, পুরনো তথা রিফার্বিশ (পুরনো জিনিসকে সাজিয়ে গুছিয়ে নতুনের মতো করে তোলা) প্রযুক্তি পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। এই মার্কেটেই অন্তত ১৫টি দোকানের খোঁজ পাওয়া গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে পুরনো ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে। এমনকি এই মার্কেটে গ্রে চ্যানেলে (নন চ্যানেল পণ্য) আসা মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমও বিক্রি হচ্ছে।

নতুন ল্যাপটপ কেনা আজকাল খুবই খরচ সাপেক্ষ বিষয়। কম দামে এখন আর ভালো ল্যাপটপ পাওয়া যায় না। Apple থেকে ডেল, যে কোনও ভালো ল্যাপটপ কিনতে এখন অন্তত 70-90 হাজার টাকা খরচ হয়। যদিও, পুরনো রিফারবিশড ল্যাপটপ কিনে আপনি খুব সহজেই 10-20 হাজার টাকা বাঁচাতে পারবেন বা তারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে। সার্টিফায়েড সেলারের কাছ থেকে রিফারবিশড প্রডাক্ট কেনার অর্থ হল, আপনি কিছুটা কম দামে প্রায় নতুনের মতোই জিনিস কিনলেন। তবে, সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফারবিশড ল্যাপটপ কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসে খেয়াল রাখা উচিত। জেনে নিন।

ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায়
বর্তমান যুগে ল্যাপটপ এখন আর কেবল কোনো বিলাসিতার বস্তু নয়। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ল্যাপটপ দৈনন্দিন কাজে অপরিহার্য একটি ডিজিটাল ডিভাইস। ছাত্র-ছাত্রী কিংবা ব্যবসায়ী , অফিস হোক বা আদালত , হাসপাতাল অথবা পুলিশ স্টেশন সবখানেই ল্যাপটপ একটি অত্যাধুনিক অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী। ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা , ডিজিটাল প্রযুক্তি , বহনযোগ্য এবং সুলভ মূল্যের জন্য যে কোনো কম্পিউটার বা পিসির তুলনায় ল্যাপটপ এখন বেশ জনপ্রিয়।

যার কারণে আপনারও প্রয়োজন হতে পারে একটি ভালো ল্যাপটপের। কিন্তু বাজারের এত এত ল্যাপটপের ভীরে একটি ভালো ল্যাপটপ খুঁজে বের করা মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়। তাই এই পর্যায়ে আমি লিখতে চলেছি একটি ভালো ল্যাপটপ চেনার উপায় সম্পর্কে। যেগুলো আপনাকে একটি ল্যাপটপ কিনার পূর্বে খুব ভালোভাবে সাহায্য করবে ইনশাল্লাহ্।

একটি ভালো মানের ল্যাপটপের নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা আবশ্যক:

ল্যাপটপের RAM: রেম একটি ল্যাপটপের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। একটি ভালো মানের ল্যাপটপের কম করে হলেও ৮ জিবি RAM থাকা জরুরি। তবে একটি ল্যাপটপের আদর্শ র্যাম ৪ জিবি ধরা হয়। নতুবা ল্যাপটপ স্লো কাজ করবে।

প্রসেসর: প্রসেসর ল্যাপটপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার। মূলত ল্যাপটপের প্রায় সকল কিছুই মনিটরিং করে এই processor. একটি ভালো মানের ল্যাপটপের একটি অন্যতম প্রধান বিশিষ্ট্য হলো dual core processor এবং 2.5 GHz এর অধিক processor frequency. তবে আপনি যদি সর্বোচ্চ স্পিড পেতে চান তবে quad core processor সবচেয়ে ভালো চয়েস। তবে এর জন্য বাজেটও সেরকম ভালো থাকতে হবে।

জেনারেশন: একটি ভালো মানের ল্যাপটপের জেনারেশন অবশ্যই latest হতে হবে। সর্বাধুনিক এবং সর্বশেষ জেনারেশন এর প্রসেসরগুলোর কার্যক্ষমতা সবথেকে ভালো এবং দ্রুত।

ডিসপ্লে সাইজ: একটি ভালো মানের ল্যাপটপের ডিসপ্লে সাইজ কম পক্ষে 14 inches হয়ে থাকে এবং ডিসপ্লে অবশ্যই HD হতে হবে।

অপারেটিং সিস্টেম: ল্যাপটপ ক্রয়ের পূর্বে এর অপারেটিং সিস্টেম চেক করা জরুরি। ভালো মানের ল্যাপটপের ক্ষেত্রে অবশ্যই Windows 10 OS operating system install করা থাকবে।

ব্রান্ড: ল্যাপটপের মান মূলত নির্ভর করে এর features এবং configurations এর উপর। সুতরাং যেসব ব্রান্ড এসব বিষয়ে সবথেকে বেশি এগিয়ে সেখান থেকেই ল্যাপটপ চয়েস করা উচিত। তাছাড়া কোম্পানির warranty এবং service center এর দিকেও নজর রাখা উচিত।

গ্রাফিক্স কার্ড: ভালো মানের একটি ল্যাপটপে অবশ্যই গ্রাফিক কার্ড দেয়া থাকবে। বিশেষ করে গেমিং ল্যাপটপগুলোতে।

স্টোরেজ: ডিভাইস স্টোরেজ অনেক জরুরি একটি বিষয়। একটি ভালো মানের ল্যাপটপে কমপক্ষে ১২০ জিবি SSD থাকবে। কেননা হার্ড ড্রাইভের (HDD) তুলনায় SSD অনেক ভালো এবং দ্রুত কাজ করে।