আপনি কার জানাজা নামাজ পড়ছেন জানেন তো

357
আপনি কার জানাজা নামাজ

আপনি কার জানাজা নামাজ পড়ছেন জানেন তো – জানাজার নামাজ ফরযে কিফায়া। মুসলমানদের পক্ষ থেকে যে কোউ পড়লেই ফরয আদায় হয়ে যাবে। এ নামাজ হচ্ছে আল্লাহতালার দরকারে মৃতব্যাক্তির জন্য দোয়া করা। আত্মীয় পরিজনসহ এলাকাবাসী সমবেত হয়ে তার জন্য দুআ করলে আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। জানাজার নামাজে বেশি লোক হওয়া ভালো। বেশি লোকের আশায় জানাজার নামাজ বিলম্ব করে পড়ার উচিত নয়।

নামাজ ফরয দু’টি
১। আল্লাহু আকবার চারবার বলা। প্রতিটি তাকবীর এক রাকাআতের হিসেবে । জানাযার নামাজ রুকু ও সিজদা নেই।
২. দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে হয় ওজর ব্যতীত বসে জানাযার নামাজ পড়া জায়িয নয়। কোন কিছুর উপর উঠে নামাজ পড়াও জায়িয নয়।

নামাজর সুন্নাত তিনটি
১। আল্লাহ্ হাম্দ ও সানা পড়া
২। নবী কারীম (সা)-এর উপর দুরূদ পড়া
৩। মৃতব্যক্তির জন্য দু’আ করা।

জানাজা নামাজ পড়ার পদ্ধতি
জানাজা নামাজ পড়ার জন্য অন্যূতম তিন কাতার করা সুন্নাত। এর চেয়ে বেশি কাতার করা যাবে। তবে কাতার বেজোড় হওয়া উচিত। মৃতকে কিবলার দিকে সম্মুখে রেখে বক্ষ বরাবর ইমাম দাঁড়াবেন। সবাইকে নিম্নের দু’আ আরবী বা বাংলায় পড়তে হবে

نويت أن أؤدي لله تعالى أربع تكبيرات صلوة الجنازة قرض الكناية والدعاء لهذا المبيت والثناء لله تعالى والصلة على رسول الله متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله

আমি জানাজার ফরযে কিফায়া নামাজ চার তাকবীরের সাথে কিবলামুখী হয়ে এ ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে মৃতব্যক্তিকে দুআ করার উদ্দেশ্যে আদায় করছি, আল্লাহু আকবার উচ্চস্বরে বলে হস্তদ্বয় কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীরে তাহরীমার মত হাত বেঁধে নিম্নের দু’আ পড়তে হয়।

سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك وجل تتناك ولا اله غيرك .

উচ্চরণঃ হে আল্লাহ্! সকল প্রশংসা তোমার। তুমি সব ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র। তোমার নাম মঙ্গল ও বরকতপূর্ণ, তোমার মহত্ত্ব অতি বিরাট, তোমার প্রশংসা অতি মহত্ত্বপূর্ণ এবং একমাত্র তুমি ছাড়া আর কোন প্রভু নেই। সানা পড়ার পর পুনরায় হাত না উঠিয়ে আল্লাহু আকবর বলে নিম্নের দু’আ পড়তে হয়।

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على ابراهيم وعلى آل ابراهيم إنك حميد مجية . اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على ابراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

তাকবীর বলে মৃতের জন্য দুআ পড়তে হয়। মৃত (পুরুষ বা মহিলা) প্রাপ্তবয়স্ক হলে এ দুআ পড়তে হবে

اللهم اغفر لحينا وميتنا وشاهدنا وغائبنا وصغيرنا وكبيرنا وذكرنا وأنقانا اللهم من
ما توه على الإيمان برحمتك يا أرحم أحييته منا فاخيه على الاسلام ومن تو
হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত, আমাদের মৃত, আমাদের মধ্যে উপস্থিত ও অনুপস্থিত, আমাদের ছোটট ও বড়, আমাদের পুরুষ ও নারী সবার গুনাহ্ ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ্! তুমি যাদেরকে জীবিত রেখেছ তাদেরকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ, তুমি যাদের মৃত্যু দাও তাদের ঈমানের সাথে মৃত্যু দাও।

আরও পড়ুন >> জামায়াতে নামাজ পড়ার নিয়ম ও ফজিলত

তারপর চতুর্থ তাকবীর বলে ইমাম ডানে ও বামে সালাম ফিরাবে, সাথে সাথে মুক্তাদীগণও সালাম ফিরাবে।
মৃত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে হলে নিম্নের দু’আ পড়তে হবে

اللهم اجعله لنا قرطا واجعله لنا أجرأ وخرا واجعله لنا شافعا ومشا .

হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে আমাদের নাজাত ও আরামের জন্য আগে পাঠিয়ে দাও, তার জন্য যে দুঃখ তা আমাদের প্রতিদান ও সম্পদের কারণ বানিয়ে দাও, তাকে আমাদের জন্য সুপারিশকারী বানাও যা তোমার দরবারে কবুল হবে।

মৃত অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়ে হলে পড়তে হবে

اللهم اجعلها لنا نطا واجعلها لا أجرا وذخرا وأجعلها لا شافع ومشفعة .

উপরের দু’আ কারো জানা না থাকলে তারা বলবে

اللهم اغفر للمؤمنين والمؤمنات .

উচ্চারণঃ হে আল্লাহ্! তুমি নারী-পুরুষ মুমিনদের ক্ষমা করে দাও। এতে বলতে না পারলে, কেবলমাত্র চার তাকবীর বললেও নামাজ হয়ে যাবে।

জানাজা কাঁধে নেয়ার পদ্ধতি
জানাজা কাঁধে উঠিয়ে চলার সময় মুস্তাহাব পদ্ধতি হলো সামনের পায়া ডান কাঁধে নিয়ে দশ কদম চলতে হয়। প্রত্যেকের দশ কদম পর পর পায়া বদল করতে হয়। এমনিভাবে যেতে হয় চল্লিশ কদম।

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জানাজা কাঁধে করে চল্লিশ কদম যাবে তার চল্লিশটি কবীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।

মৃতকে দাফন
১। মৃতকে দাফন করাও ফরযে কিয়ায়া ।
২।. কবরের দৈর্ঘ্য হবে মৃতের উচ্চতার সমান, গভীরতা তার অর্ধেক, প্রস্থ হবে দুই হাত, যাতে মৃতকে রাখা যায়।
৩। মৃতকে কবরে নামানোর পূর্বে তাকে কবরের কিবলার দিকে রাখতে হয়। যারা নামাবে, তাদের কিবলামুখী হতে হবে। মৃতের মাথা উত্তরদিকে এবং পা দক্ষিণদিকে থাকবে।
৪। কবরে নামানোর সময় বলতে হয় (বিসমিল্লাহ ওয়া আলা সুন্নাতি রাসুলিল্লাহ। অন্য বর্ণনায় এসেছে- বিসমিল্লাহি ওয়া আলা মিল্লাতি রাসুলিল্লাহ। (তিরমিজি ও আবু দাউদ) মুস্তাহাব।
৫। মৃতকে কবরে রেখে ডান কাত করে কিলামুখী করে দেয়া সুন্নাত।
৬। মহিলা হলে পর্দার সাথে নামানো মুস্তাহাব। শরীর খুলে যাওয়ার আশংকা থাকলে পর্দা করা ওয়াজিব।

আরও পড়ুন >> গুগলের ৫টি জনপ্রিয় এ্যাপস আপনার জীবনকে পাল্টে দিবে

৭। কবরে মাথার দিক থেকে মাটি দেয়া মুস্তাহাব। দুই হাতে মাটি কবরে রাখতে হয়। প্রথমবার বলতে হয় (মিনহা খালাক না কুম) ও দ্বিতীয়বার বলতে হয় (ওয়া ফি হা নুয়িদু কুম) এবং তৃতীয়বার বলতে হয় (ওয়া মিনহা নুখরেজু কুম, তারায়াতান উখরা )।
৮। দাফনের পর কিছুক্ষণ কবরের পাশে থেকে মৃতের জন্য দু’আ করা মুস্তাহাব।
৯। মাটি দেয়ার পর কবরে পানি ছিটানো মুস্তাহাব।

১০। একটি কবরে একজন মৃতকেই দাফন করা উচিত। তবে প্রয়োজনে একাধিকও করা যায়।
১১। সৌন্দর্যের জন্য কবরের উপরে দালান-কোঠা, গম্বুজ, মিনার ইত্যাদি তৈরি করা হারাম।
১২। সমুদ্র ভ্রমণে কারো মৃত্যু হলে সেখান থেকে স্থলভূমি এত দূরে যে, পৌছতে পৌছতে লাশ বিকৃত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এমতাবস্থায় গোসল দিয়ে জানাজার পর মৃতকে সমুদ্রে ছেড়ে দিতে হবে। তবে স্থলভূমি কাছে হলে কবর দেয়াই উচিত।