আগাম বৃষ্টিতে লালপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি!

নাটোরের লালপুরে সুপার সাইক্লোন আম্পান সহ আগাম ৩দফা বৃষ্টিতে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে চাষকৃত পাট,তিল, ভুট্টা, মুগডালের জমিতে পনি জমে নষ্ট হয়ে গেছে ফসল। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

তবে কৃষি বিভাগ সম্প্রতি বয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে লালপুর উপজেলায় আম, লিচু, কলা ও পেপেতে প্রায় ২০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করলেও খরিপ মৌসুমের এই সকল ফসলের ক্ষয়ক্ষতি এখন পর্যন্ত নিরুপন করতে পারেনি। আবহাওয়া স্বাভিক হয়ে গেলে জমির পানি নেমে গেলে তেমন ক্ষতি হবেনা বলে দাবি করছেন কৃষি বিভাগ।

লালপুর উপজেলায় কৃষকরা শীতকালীন ফসল গম, মসুর ও রসুুন ঘরে তোলা শেষে খরিপ মৌসুমে পাট, তিল, মুগডাল ও ভুট্টার চাষ করে থাকে। তবে এই বছর ৩দফা আগাম বৃষ্টির কারনে উপজেলার প্রায় জমিতে পানি জমে নষ্ট হয়েগেছে কৃষকের চাষকৃত খরিপ মৌসুমের এই সকল ফসল। এতে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২১৮০ হেক্টর জমিতে মুগ, ৫০৫ হেক্টর জমিতে তিল, ৫৮৮০ হেক্টর জমিতে পাট, ৯০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১০০ হেক্টর জমিতে কলা, ৪৫ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৯০০ হেক্টর জমিতে সবজি, ২০০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ রয়েছে। এছাড়াও ৭ হেক্টর জমিতে আউশ বীজতলা ও ২০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন, ১২০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন রয়েছে।’

সরেজমিনে উপজেলার আড়বাব, চংধুপইল, কদিমচিলানও ওয়ালিয়া ইউপির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, তিল, মুগডাল, ভুট্টা ও পাটের জমিতে পানি জমে রয়েছে। তিল, মুগডালের গাছ গুলি মরে গেছে, ভুট্টা গাছ গুলির পাতা ও গাছ মরে সাদা হয়ে আছে। পাটের গাছ গুলি ঝিমিয়ে রয়েছে।

এসময় কথা হয় ভুট্টা চাষী মজনু অলীর সঙ্গে তিনি ইনকিলাব কে বলেন, ‘এবছর ৩বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন। আগাম বৃষ্টিতে তার সব ভুট্টা গাছ গুলি মরে গেছে। এখন সামনে রোপা আমন ধান চাষ করার জন্য তার কাছে আর কোন টাকা নেই।

উপজেলার প্রায় কৃষকরাই একই কথা বলছেন। অনেক কৃষকই এনজিওর নিকট থেকে টাকা নিয়ে জমি লিজ নিয়ে তিল, ভুট্টা ও পাটের চাষ করেছিলেন। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার সর্বশান্ত হতে বসেছে। সরকারী প্রণোদনা না পেলে তারা আগামী বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন ধানের চাষ করতে পারবে না। অনেক কৃষককেই তাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে কাটাতে হবে।

লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম ইনকিলাব কে বলেন,‘এবছর আগাম বৃষ্টিতে খরিপ মৌসুমের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে এর মধ্যে পানি নামতে শুরু করায় অনেক পাট ক্ষেত স্বাভিক হতে শুরু করেছে। উপসহকারী কর্মকর্তাগণ ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরী করে উদ্ধুতর্ন কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।’